আজ || সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
শিরোনাম :
  গোপালপুরে লবণের সঙ্গে নেশাজাতীয় দ্রব্য; শিশুসহ একই পরিবারের ৭ জন হাসপাতালে       এসএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের অনুশোচনা নেই – আব্দুস সালাম পিন্টু এমপি       গোপালপুরের উন্নয়ন নিয়ে প্রেসক্লাবে মতবিনিময় সভা       কৃষকনেতা ও সাংবাদিকের মুক্তির দাবিতে গোপালপুরে সিপিবির মানববন্ধন       গোপালপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে কৃষক দলের বিজয় র‍্যালি       গোপালপুরের হাদিরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু আল হেলাল       গোপালপুরে ২১ এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ওএমআর শিট হারিয়ে গেছে, আহ্বায়ককে অব্যাহতি       প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নদী খনন কর্মসূচির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে : প্রতিমন্ত্রী টুকু       গোপালপুরে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষকদের সংবর্ধনা       গোপালপুরে যমুনার ভাঙনে বিলীন বসতভিটা-আবাদি জমি, হুমকিতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ    
 


গোপালপুরে অপুষ্টির শিকার এতিমদের মুখে হাসির ঝিলিক

কে এম মিঠু, গোপালপুর : দিনে তিন বেলা খাবার জোটে না। কপাল ভালো হলে মাসে একবার মাছমাংসের দেখা মেলে। দানশীলরা কখনো হাত বাড়ালে তবেই বছরে দুইএকবার ক্ষীরপায়েস মুখে উঠে। লিকলিকে ছিপছিপে শরীর নিয়ে পড়াশোনার কাজ চালাতে গিয়ে গলদগর্ম থাকে তারা। লোকে বলে এতিম। আর যেখানে তাদের অনাদরে বসবাস তার নাম এতিমখানা। কারো বাবা নেই, কারো মা নেই। কারো দুকূলে কেউ নেই। এমন অনাথ ও নিঃস্ব শিশু এবং কিশোরদের মুখে আজ হাসির ঝিলিক দেখা যায়। ভাতেমাছে বাঙ্গালীর চিরন্তন কামনার যে বচন তা সত্য হয়ে ধরা দেয়। আর এ দুর্লভ সুযোগের রচনা করলেন গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিকাশ বিশ্বাস। ব্যতিক্রমধর্মী এ মহৎ উদ্যোগ সারা উপজেলায় আলোচনার বিষয় হয়ে দাড়ায়।

উপজেলার নগদাশিমলা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি আবুল হোসেন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জগন্নাথবাড়ী মৌজার কইচা বিলের প্রায় ৬ একর জায়গা জবরদখল করে পুকুর খনন করে মাছ চাষ শুরু করে। কয়েক মাস আগে উপজেলা প্রশাসন আবুল হোসেনকে পুকুর থেকে উচ্ছেদ করে লাল নিশান টানিয়ে সীমানা চিহ্নিত করেন। পুকুরটির শ্রেণীভূক্ত নামা খাস থেকে সায়রামহলভূক্ত করার জন্য জেলা প্রশাসনের নিকট প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়। এজন্য পুকুরে নতুন করে মাছ না ছাড়তে তাকে নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু আবুল হোসেন প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ওই পুকুরে নতুন করে মাছ ছাড়েন এবং আরেকজনকে অবৈধভাবে বর্গা দেন।

খবরটি জানতে পেরে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের অনুমতিক্রমে আজ সোমবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিকাশ বিশ্বাস, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) রেজা মাসুম প্রধান, মিডিয়াকর্মী এবং থানা পুলিশ নিয়ে অকূস্থলে হাজির হন। তিনি একদল জেলে দিয়ে পুকুরের সাকূল্য মাছ তোলেন। সব মাছ ট্রাকে ভরে নগদাশিমলা ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গনে জড়ো করা হয়। এর মধ্যে গোপালপুর উপজেলার সকল এতিমখানার তালিকা তৈরি করা হয়। সেই তালিকা ধরে এক ট্রাক রুইকাতল, মৃগেল, পাঙ্গাস, শরপুটি মাছ এতিমখানার শিশুকিশোরদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এসময় এতিমদের সাথে তাদের শিক্ষকরাও উপস্থিত ছিলেন।

মজিদপুর এতিমখানার ছাত্র বুলবুল জানায়, প্রায় দেড় মণ মাছ পেয়েছে তাদের এতিমখানা। আনন্দমুখরিত দেড়শতাধিক এতিম আজ রাতে পরম তৃপ্তির সাথে এসব মাছের রান্নার খাবার গ্রহন করেন। পাঙ্গাস মাছের রেজালার প্রতি অনেক দিনের সাধ ছিল তাদের। উপজেলা প্রশাসনের বদৌলতে সেই কাঙ্খিত খাবার জোটে আজ।

১৯টি এতিমখানার প্রায় সহর্রাধিক এতিম আজ রাতে পেট পুরে মাছেভাতে উদরপূর্তি করেছেন বলে জানান সূতি হিজলীপাড়ার এতিমখানার শিক্ষকরা।

এতিমদের মধ্যে মাছ বিতরণের সময় নগদাশিমলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম হোসেন আলী, প্রেসক্লাব সভাপতি অধ্যাপক জয়নাল আবেদীনসহ সকল ইউপি সদস্য ও রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিকাশ বিশ্বাস জানান, অবৈধ দখল উচ্ছেদের পর সরকারি দখল বজায় এবং রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে প্রশাসন ব্যবস্থা নেয়। আর পুকুরের মাছ আইনঅনুযায়ী বিলিবন্দেজ করা হয়েছে।


Top
error: Content is protected !!